ইসলামের তৃতীয় খলিফা,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ২ কন্যার জামাতা উসমান যিননূরাইন(রা) এর ব্যাপারে পরবর্তী যামানার কিছু ব্যক্তির উত্থাপিত অভিযোগ এবং মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন উমর(রা) কর্তৃক সেগুলার রদ ও ব্যাখ্যা প্রদান আমরা সহি সূত্রের বর্ণনায় জেনে নেইঃ-
‘উসমান ইবন মাওহাব(রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক মিসরবাসী মক্কায় এসে হজ্জ করে দেখতে পেল যে, কিছু লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা? বললেন, ইনি ‘আবদুল্লাহ ইব্ন ‘উমর(রাঃ)। সে ব্যক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে ‘আবদুল্লাহ ইব্ন ‘উমর (রাঃ), আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব; আপনি আমাকে বলুন,
(১) আপনি কি এটা জানেন যে, ‘উসমান(রাঃ) উহুদ যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে গিয়েছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ।
(২) সে বলল, আপনি জানেন কি ‘উসমান(রাঃ) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইব্ন ‘উমর(রাঃ) উত্তরে বললেন, হাঁ।
(৩) ‘আপনি জানেন কি, বায়’আত রিযওয়ানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন?’ ইব্ন ‘উমর(রাঃ) বললেন, হাঁ।
লোকটি বলে উঠল, আল্লাহু আকবার। ইব্ন ‘উমার(রাঃ) তাকে বললেন, এস, তোমাকে আসল ঘটনা বলে দেই। ‘উসমান (রাঃ) –এর উহুদ যুদ্ধ হতে পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করেছেন। আর তিনি বদর যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কন্যা, তাঁর স্ত্রী রোগাক্রান্ত ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, বদরে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গনীমতের অংশ মিলবে। আর বায়’আত রিযওয়ান হতে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর চেয়ে সম্ভ্রান্ত অন্য কেউ যদি থাকতো তবে তাকেই তিনি ‘উসমানের বদলে পাঠাতেন। অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উসমান(রাঃ) –কে মক্কায় পাঠান। এবং তাঁর চলে যাবার পর বায়’আত রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাতের প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, এটি ‘উসমানের হাত। অতঃপর ডান হাত বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল ‘উসমানের বায়’আত। ইব্ন ‘উমার(রাঃ) ঐ লোকটিকে বললেন, তুমি এই জবাব তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও।
[সহি বুখারী ৩৪৩৩; সুনানে তিরমীযি ৩৭০৬]
উসমান(রা)এর ত্রুটি অনুসন্ধানকারী ঐ ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরের সাথে তার পটভূমি এবং উসমান(রা)এর উপরে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল(ﷺ)এর প্রকাশিত মতও জানিয়ে দিলেন ইবন উমর(রা)। বদর যুদ্ধে উসমান(রা) পিছে রয়ে যান কারণ,তাঁর স্ত্রী- রাসূল(ﷺ) এর কন্যা রুকাইয়্যা(রা) অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁকে দেখভালের আবশ্যকতায়, রাসূল(ﷺ)এর সম্মতিকর্মে। বদর থেকে ফিরে এসে দেখেন রুকাইয়্যা(রা) ইন্তিকাল করেছেন, এরপরে রাসূল(ﷺ) এর আরেক কন্যাকে উসমান(রা)এর সাথে বিবাহ করান।
উহুদ যুদ্ধের সময় মুসলিমরা নিজেদের বিজয়ী মনে করে ফেলেছেন, এমন সময়ে মুশরিকদের অতর্কিত আক্রমণে সাহাবীরা অল্প কয়েকজন বাদে সবাই ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক ছুটে যান, কিন্তু আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে এই আয়াত- “যেদিন দু’দল(মুসলিম ও কাফির) পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল,সেদিন তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল,তাঁদের কোন কৃতকর্মের জন্য শয়তান তাঁদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল।অবশ্য আল্লাহ্ তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন; আল্লাহ্ ক্ষমাপরায়ণ ও পরম সহনশীল” {সূরা আ’লে ইমরানঃ আয়াত ১৫৫} আল্লাহ্ নিজেই যেখানে ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন এরপরে কোন মাখলুকের আর আপত্তির স্থান থাকেনা।
৬ষ্ঠ হিজরির হুদাইবিয়া প্রান্তরে বাইয়্যাতে রিযওয়ানের সময়ে উসমান(রা)এর সম্ভ্রান্ত মর্যাদার কারণে তিনি মক্কায় প্রেরিত হন,সেটা রাসূল(ﷺ) এর নির্দেশেই, সুতরাং তিনি হুসাইবিয়াতে অনুপস্থিত থাকবেন তাই স্বাভাবিক। আর সাহাবীরা যে বাইয়্যাত নিয়েছেন,যে বাইয়্যাতকারীদের আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে জান্নাতী ঘোষনা দিয়েছেন, সেই বাইয়্যাতের কারণও ছিল- উসমান(রা)কে শহীদ করা হয়েছে ভেবে তাঁর জানের বদলার জন্য। বরং এখানে আরো মর্যাদার বিষয় যে, স্বয়ং রাসূল(ﷺ) নিজের হাত মুবারককে উসমান(রা)এর হয়ে বাইয়্যাত করেছিলেন!
আল্লাহ্ তায়ালা সাহাবীদের ত্রুটি অনুসন্ধানকারী ও বিদ্বেষ পোষণকারীদের মুখ কালিমাযুক্ত করুন
রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
↔ উসমান(রা) এর উপরে উত্থাপিত অভিযোগ এর জবাবঃ
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০১৫
নাবী (সাঃ) এর সলাতের পদ্ধতি
সলাতে দাঁড়ানোর সময় রসূল (সাঃ) ‘আল্লাহ আকবার’ বলতেন। এর পূর্বে তিনি কোন কিছুই পাঠ করেন নি। সলাতের শুরুতে তিনি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেন নি। সাহাবী, তাবেঈ এবং চার মাজহাবের ইমামদের কেউ এটিকে মুস্তাহাব বলেননি।
তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তিনি ألله أكبر ‘আল্লাহু আকবার’ বাক্যটি পাঠ করতেন। এ ছাড়া তিনি অন্য কিছুই পাঠ করতেন না। তাকবীর পাঠ করার সময় তিনি উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ খোলা রেখে এবং কিবলামুখী করে কানের লতি পর্যন্ত উঠাতেন। কাঁধ পর্যন্ত উঠানোর কথাও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর ডান হাতের কব্জি ও বাহুকে বাম হাতের কবজি ও বাহুর উপর স্থাপন করতেন। উভয় হাত রাখার স্থান সম্পর্কে রসূল (সাঃ) থেকে সহীহ সূত্রে কিছুই বর্ণিত হয়নি। তবে ইমাম আবু দাউদ আলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, সলাতে এক হাতের কব্জিকে অন্য হাতের কব্জির উপর রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।[1] তাকবীরে তাহরীমার পর কখনও তিনি এই দু’আটি (ছানাটি) পড়ে সলাত শুরু করতেনঃ
أَللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَ بَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَّ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللّٰهُمَّ نَقِّنِيْ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْاَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اَللّٰهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার এবং আমার পাপসমূহের মাঝে এমন দুরত্ব সৃষ্টি করে দাও যেমন দুরত্ব সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমুহ পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমনভাবে পাপাচার থেকে পরিস্কার করে দাও যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে ধৌত করে পরিচ্ছন্ন করা হয়’’।[2] তিনি কখনও এই দু’আটি পাঠ করতেন-
وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِى فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللّٰهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ. أَنْتَ رَبِّى وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِى وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِى فَاغْفِرْ لِى ذُنُوبِى جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِى لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِى لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّى سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ عَنِّى سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِى يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
‘‘আমি একমূখী হয়ে স্বীয় মুখমন্ডল ঐ সত্তার দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কোরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তার কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। হে আল্লাহ! তুমি এমন বাদশাহ যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। তুমি আমার প্রভু, আমি তোমার বান্দা। আমি আমার নিজের উপর জুলুম করেছি।
আমি আমার পাপ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দাও। তুমি ব্যতীত গুনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করো। তুমি ব্যতীত আর কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতে পারেনা। তুমি আমার থেকে খারাপ চরিত্রগুলো দূর করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ আমার থেকে খারাপ চরিত্রগুলো দূর করতে সক্ষম নয়। হে আমার প্রভু! আমি তোমার হুকুম পালন করতে প্রস্ত্তত ও উপস্থিত আছি। আমি তোমার আনুগত্যের জন্য সদা প্রস্ত্তত রয়েছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার উভয় হসেত্মই নিহিত। অকল্যাণকে তোমার দিকে সম্পৃক্ত করা শোভনীয় নয়। আমি সম্পূর্ণরূপে তোমার দিকে মুখাপেক্ষী ও নিজেকে তোমার উপর সোপর্দকারী এবং তোমার দিকেই আমি প্রত্যাবর্তনকারী। তুমি বরকমতময় ও মহিমান্বিত। তোমার কাছেই আমি ক্ষমা চাচ্ছি এবং তোমার নিকটই তাওবা করছি।’’[3]
তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে এই দু’আটি তাহাজ্জুদ সলাতের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। কখনও কখনও তিনি এই দু’আটিও পড়তেন-
اللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِى لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ أَنْتَ تَهْدِى مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
‘‘হে আল্লাহ! তুমি জিবরীল, মীকাঈল এবং ইসরাফীলের প্রভু। আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব বিষয়েই তুমি অবগত। তোমার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হয় তুমি সে বিষয়ের ফয়সালাকারী। যেই সত্য সম্পর্কে মতভেদ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করো। অর্থাৎ তুমি আমাকে হক ও হিদায়াতের উপর অবিচল রাখো। নিশ্চয়ই তুমি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করে থাকো’’।[4]
আবার কখনও তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর এই দু’আও পড়তেন
اللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ اللّٰهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِى مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
‘‘হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। তুমি আসমান-যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থিত সকল বস্ত্তর আলো। তোমার জন্য সকল প্রশংসা। আসমান ও যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে তুমি ঐ সব বস্ত্তর অধিকর্তা। তোমার জন্য সকল প্রশংসা। তুমি সত্য, তোমার অঙ্গিকার সত্য, কিয়ামতে তোমার সাক্ষাত সত্য, তোমার কথা সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নাবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ (সাঃ) সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পন করেছি। তোমার উপর ভরসা করেছি। তোমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। তোমার নিকট প্রত্যাবর্তন করেছি। তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে বিবাদে লিপ্ত হয়েছি। তোমার নিকটই সকল বিষয় মীমাংসার জন্য পেশ করেছি। তুমি আমার পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি। তুমি যাকে চাও আগে কর বা অগ্রসর কর এবং তুমিই যাকে চাও পিছিয়ে দাও। তুমি ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ নেই।[5]
উপরে বর্ণিত সবগুলো দু’আই নাবী (সাঃ) থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তাকবীরে তাহরীমার পর তিনি নিম্নের দু’আটির মাধ্যমে সলাত শুরু করতেনঃ
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
‘‘হে আল্লাহ্! প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা সকলের উপরে এবং তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন সত্য উপাস্য নেই’’।[6]
তবে পূর্বে উল্লেখিত দু’আগুলো এই দু’আটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। উমার (রাঃ) হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূল (সাঃ) এর মুসাল্লায় দাঁড়িয়ে এই শেষোক্ত দু’আটি উঁচু আওয়াজে পাঠ করতেন এবং মানুষকে তা শিখাতেন।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) বলেন- উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণনাই আমি গ্রহণ করছি। তবে কোন ব্যক্তি যদি সলাতে দাঁড়ানোর সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম থেকে বর্ণিত যে কোন দু’আ পাঠ করে, তা উত্তম হবে।
সলাত শুরু করার দু’আ তথা ছানা পাঠ করার পর তিনি বলতেন-
أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
‘‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় কামনা করছি। শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু’’। অতঃপর তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। তিনি কখনও উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ্ পাঠ করতেন। তবে অধিকাংশ সময়ই তিনি তা নিরবে বলতেন।
নাবী (সাঃ) প্রত্যেক আয়াত পাঠ করার পর সামান্য সময় থামতেন। আয়াতের শেষ অক্ষর উচ্চারণ করার সময় আওয়াজ লম্বা করতেন। সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ হলে আমীন বলতেন। যেই সলাতে উঁচু আওয়াজে কেরাআত পাঠ করা হয়, তাতে তিনি আমীনও উঁচু আওয়াজে বলতেন। তাঁর পিছনের মুসল্লিগণও উঁচু আওয়াজে আমীন বলতেন।[7]
সলাতের প্রথম রাকআতে তাঁর দু’টি সাকতাহ্ (সামান্য বিরতি) ছিল। অর্থাৎ তিনি দুইবার সামান্য সময়ের জন্য বিরতি গ্রহণ করতেন। একটি ছিল তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মাঝখানে। দ্বিতীয়টির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। এক বর্ণনায় রয়েছে যে, তা ছিল সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর। অন্য বর্ণনায় আছে যে, তা ছিল কিরাআত পাঠ শেষে এবং রুকুতে যাওয়ার পূর্বে। আরও বলা হয়েছে যে, প্রথম সাকতাহ্ ছাড়াও আরও দু’টি সাকতা রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে সাকতাহ্ মাত্র দু’টি। তৃতীয় সাকতা’র ব্যাপারে কথা হচ্ছে, তা ছিল খুবই সামান্য সময়ের জন্য। শ্বাস নেওয়ার জন্য তিনি এই সাকতাহ্ (সামান্য বিরতি) গ্রহণ করতেন। খুব সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে কতক আলেম এটিকে সাকতাহ্ হিসাবে উল্লেখ করেন নি।[8]
সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। রসূল (সাঃ) কখনও লম্বা সূরা পাঠ করতেন আবার কখনও সফর অথবা অন্য কোন কারণে সংক্ষিপ্ত কিরাআত পাঠ করতেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় তিনি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতেন।
ফুটনোটঃ [1]. আবু দাউদ, আলএ. হা/৭৫৬, মূল কিতাব যাদুল মাআদে শুধু ডান হাত বাম হাতের উপর রাখার কথা আছে। সেখানে এই হাদীসটি নেই। আর মুখতাসার যাদুল মাআদের কোন কোন ছাপায় ব্র্যাকেট দিয়ে আটকিয়ে হাদীসটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার হাদীসটির তাখরীজ ও তাহকীক প্রসংঙ্গে আসি। হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানী রহঃ) বলেনঃ মুহাদ্দিছদের সর্বসম্মতিক্রমে হাদীসটি যঈফ। সুতরাং যেখানে ইমামগণ হাদীছকে যঈফ বলেছেন, তাই ইমাম আবু দাউদ রহঃ) তা বর্ণনা করে যদি চুপ থাকতেন তারপরও তা দলীল হিসেবে গ্রহণ করার কোন সুযোগ ছিল না। কেননা তিনি এ রকম অনেক হাদীসের ব্যাপারেও নিরবতা অবলম্বন করেছেন। পরবর্তীতে অন্যান্য আলেমগণ সেগুলোকে যঈফ বা বানোয়াট বলেছেন। তারপরও তিনি এই হাদীসের বিষয়ে চুপ থাকেন নি। বরং ইমাম আবু দাউদ রহঃ) হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন- আমি আহমাদ বিন হাম্বাল রহঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ এই হাদীসের অন্যতম রাবী আব্দুর রাহমান বিন ইসহাক আল-কুফী যঈফ। বিস্তারিত দেখুনঃ আউনুল মাবুদ (২/৩২৩)।
প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উছাইমীন রহঃ) বলেনঃ সলাতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখা সুন্নাত। যেমন-
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُوْنَ اَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِى الصَّلَاةِ
‘‘ অর্থ: সাহাল ইবন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদেরকে স্বলাতে ডান হাত বাম হাতের যিরার উপর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হত।’’। (বুখারী, অধ্যায়ঃ আযান, অনুচ্ছেদ- ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখা, তাও. হা/৭৪০, আপ্র. হা/৬৯৬, ইফা.হা/৭০৪, মুয়াত্তা মালেক, মাশা. হা/৫৪৬, মিশকাত, হাএ. হা/৭৯৮)। কিন্তু হাত দু’টিকে কোন স্থানে রাখবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বিশুদ্ধতম মত হচ্ছে, হাত দু’টি বুকের উপর রাখবে। ওয়ায়েল বিন হুজ্র্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
كَانَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ
‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর স্থাপন করতেন’’। (দেখুনঃ ইবনে খুযায়মা মাশা. হা/৪৭৯) হাদীসটিতে সামান্য দুর্বলতা থাকলেও এক্ষেত্রে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসের তুলনায় এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী। আর বুকের বাম সাইডে অমত্মরের উপর হাত বাঁধা একটি ভিত্তিহীন বিদআত। নাভীর নীচে হাত বাঁধার ব্যাপারে আলী থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু তা দুর্বল। ওয়ায়েল বিন হুজর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি অধিক শক্তিশালী। বুকের উপর হাত রাখার ব্যাপারে ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত সহীহ ইবনে খুযায়মাতে অন্য একটি হাদীছ রয়েছে। ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ) বলেনঃ
صَلَّيْت مَعَ رَسُول اللَّه صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعَ يَده الْيُمْنَى عَلَى يَده الْيُسْرَى عَلَى صَدْره
আমি রসূল সাঃ) এর সাথে সলাত পড়েছি। তিনি তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর স্থাপন করেছেন। সুতরাং এই হাদীসটিও বুকের উপর হাত বাঁধা সুন্নাত হওয়ার একটি শক্তিশালী দলীল। আরও বিস্তারিত জানার জন্য ভারত বর্ষের প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা হায়াত সিন্দি রহঃ) যিনি কুতুবে সিত্তার উপর টিকা লিখেছেন, তাঁর বিরচিত কিতাব فتح الغفور في وضع اليدين فوق الصدور (ফাতহুল গাফুর ফী ওয়ায-ইল ইয়াদাইনে ফাওকাস্ সুদুর) দেখে নেয়া যেতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।
[2]. বুখারী, অধ্যায়ঃ তাকবীরে তাহরীমার পর কী বলবে?, বুখারী, তাও. হা/৭৪৪, ইফা. হা/৭০৮, আপ্র. হা/৭০০ মুসলিম, হাএ. হা/১২৪১, ইফা. হা/১২৩০, ইসে. হা/১২৪২, সহীহ ইবনে মাজাহ, মাশা. হা/৬৫৬, নাসায়ী, মাপ্র. হা/ ৮৯৫, মিশকাত, হাএ. হা/৮১২।
[3] .মুসলিম হাএ. হা/১৬৯৭, ইফা. হা/১৬৮২, ইসে. হা/১৬৮৯,
[4] .আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ সলাত শুরু করার দুআ, আবু দাউদ,আলএ. হা/৭৬৭, সহীহ আত-তিরমিযী, মাপ্র. হা/৩৪২০
[5]. বুখারী, অধ্যায়ঃ রাতের তাহাজ্জুদ সলাত। সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ রাতের সলাতের দুআ, হাএ. হা/১৬৯৩, ইফা.হা/১৬৭৮, ইসে. হা/১৬৮৫,
[6]. আবু দাউদ, আলএ. ও ইফা হা/৭৭৫,৭৭৬, নাসায়ী, মাপ্র. হা/৮৯৯, ইফা.হা/৯০২, তিরমিযী, মাপ্র. হা/২৪৩, মিশকাত, হা/৮১৫, ইরওয়াউল গালীল,হা/ ৩৪০সহীহ , তাহক্বীক্ব: আলবানী
[7]. উঁচু আওয়াজে আমীন বলার বিস্তারিত হাদীছগুলো জানতে দেখুন: বুখারীতে ৩টি = তাও.হা/৭৮০,৭৮১,৭৮২, ইফা. হা/৭৪৪,৭৪৫, ৭৪৬, আপ্র. হা/৭৩৬,৭৩৭, ৭৩৮, মুসলিমে মোট ৮টি= হাএ. হা/৭৯৯ হতে ৮০৬ পর্যন্ত, ইফা. হা/৭৯৬-৮০৩, ইসে. হা/৮০৮-৮১৫, আবু দাউদ,আলএ. হা/৯৩২, ৯৩৬, ইফা. হা/৯৩২, নাসায়ী, মাপ্র. হা/৮৩০, ৯২৮, তিরমিযী, মাপ্র. হা/২৫০, সহীহ ইবনে মাজাহ, মাশা. হা/৬৯৩, ৬৯৪, ৬৯৫, ৬৯৬, মুয়াত্তা মালেক, মাশা. হা/২৮৮, সুনানুল কুবরা আ-বাইহাকী, মাশা. হা/২৫৫৫, মিশকাত, হাএ. হা/৮২৫, ৮২৬)এছাড়াও একাধিক সহীহ হাদীস প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে।
[8]. সুতরাং সাকতার সংখ্যা মোট দু’টি। একটি তাকবীরে তাহরীমার পর অন্যটি সূরা ফাতিহা পাঠের পর। ইমাম যখন সূরা ফাতিহা পড়ে সাকতাহ গ্রহণ করবেন তখন মুক্তাদীগণ পূর্বে প্রত্যেক আয়াতের সাথে সাথে না পড়ে থাকলে এই সুযোগে সূরা ফাতিহা পড়ে নিবেন। মনে রাখবেন উক্ত বিরতি মূলত সূরা ফাতিহা পাঠ করার জন্য নয়। তাই যারা শুরু থেকে সলাতে উপস্থিত থাকেন, তাদের ইমামের সাথে তা পড়ে নেয়া উচিত।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫
বিতর এর সালাত
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রাতের সালাত দু’ দু’ (রাক‘আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হবার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। সহীহ বুখারী (তাওহীদ), ১৪/ বিতর ৯৯০,৪৭২ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৩২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯৩৭)
Narrated Ibn `Umar: Once a person asked Allah's Messenger (ﷺ) (ﷺ) about the night prayer. Allah's Apostle (ﷺ) replied, "The night prayer is offered as two Rak`at followed by two Rak`at and so on and if anyone is afraid of the approaching dawn (Fajr prayer) he should pray one Rak`ah and this will be a Witr for all the Rak`at which he has prayed before."
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ السَّلاَم صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى.
http://www.revenuehits.com/lps/v41/?ref=@RH@Kc0pPda5fF0">
শনিবার, ২০ জুন, ২০১৫
, সওম পালনকারীর জন্য রাইয়্যান
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, সওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। ( সহীহ বুখারী (তাওহীদ), ৩০/ সাওম/রোযা১৮৯৬, ৩২৫৭, মুসলিম ১৩/৩, হাঃ ১১৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৬১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭ ৭২)
Narrated Sahl: The Prophet (ﷺ) said, "There is a gate in Paradise called Ar-Raiyan, and those who observe fasts will enter through it on the Day of Resurrection and none except them will enter through it. It will be said, 'Where are those who used to observe fasts?' They will get up, and none except them will enter through it. After their entry the gate will be closed and nobody will enter through it."
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ عَنْ سَهْلٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ